সবার জন্য ইভিএম মেশিন পরীক্ষার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিলেন ড. কায়কোবাদ

২৫ মে, ২০২২ ১৬:৫৫  
সবার জন্য ইভিএম মেশিন পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি ও গণিতবিদ ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সম্পর্কে জানতে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বুধবার (২৫ মে) নির্বাচন কমিশন ভবনে ইভিএম মেশিনে ডামি ভোট দিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে এর নানা দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, কোনো মেশিনকেই শতভাগ বিশ্বাস করা যাবে না। তবে এখানে মেশিনের জায়গায় আর কোনো কাজ বাকি নেই। ফলাফল প্রভাবিত করারও সুযোগ নেই। প্রতিটি জায়গা এমনভাবে কাস্টমাইজ করা হয়েছে যে, কেউ চাইলেই তা পরিবর্তন করতে পারবেন না। এই প্রকল্পের সাথে যারা ৪-৫ বছর ধরে কাজ করেছেন তাদের আত্মবিশ্বাসে আমি নিশ্চিত হয়েছি, খুবই ভালো মেশিন তৈরি করা হয়েছে। আমি আশা করবো নির্বাচন কমিশন এমন ব্যবস্থা করবে, যেকোনো নাগরিক এসে যেন মেশিনটি পরীক্ষা করে দেখতে পারে সবকিছু ঠিকভাবে আছে কিনা। রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে ড. কায়কোবাদ বলেন, তাদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টা নির্বাচন কমিশনের আইনে রয়েছে এবং সেটা তারা করবে। বায়োমেট্রিক সার্চ করে পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই বলে মনে করি। যে কোনো মেশিনের জন্য আধুনিকায়ন জরুরি এটার প্রতিটা ছোট ছোট অংশ যেভাবে কাস্টমাইজ করা হয়েছে, কেউ এসে এটাকে ম্যানিপুলেট করবে, এটা সম্ভব নয়। আমরা পরামর্শ দিয়েছি, এই মেশিন থেকে শুধু ভোট দেওয়ায় নয়, ভোটের যত স্ট্যাটিস্টিকস আছে, সব ধরণের ব্যবস্থা রাখতে। আশা করি এগুলি ওনারা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে করবেন। এর আগে মঙ্গলবার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল জানিয়েছিলেন, বৈঠকে ইভিএম প্রদর্শনীর পাশাপাশি সার্বিক কারিগরি দিক তুলে ধরা হবে। এরপর যন্ত্রটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নেবে কমিশন। ইভিএম চ্যালেঞ্জ ছোড়ার সময় এখনও হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ইভিএমের ত্রুটি ধরতে পারলে ১০ মিলিয়ন ডলারের ঘোষণাও উদ্ভট। প্রসঙ্গত, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট চালু করে। সে সময় যে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট নেয়া হতো, তাতে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে কমিশন নতুন আরেকটি যন্ত্র নিয়ে আসে। আর বর্তমান কমিশনের আমলে ব্যবহার করা হচ্ছে আরেক ধরনের যন্ত্র। সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা দামের বেশি উন্নত মেশিন তৈরি করে নিয়েছে এই কমিশন। বর্তমানে ইসির কাছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ইভিএম রয়েছে। এই যন্ত্রে দুটি ইউনিট। একটি নিয়ন্ত্রণ ইউনিট। আরেকটি ব্যালট ইউনিট। নিয়ন্ত্রণ ইউনিটে আঙুলের ছাপ মিললেই ব্যালট ইউনিটে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ব্যালট পেপার ওপেন হয়। যাদের আঙুলের ছাপ মেলে না, তারা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সহায়তা নিয়ে ব্যালট ইউনিট ওপেন করে ভোট দিতে পারবেন, তবে মোট ভোটারের ১ শতাংশকে এই সুবিধা দিতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।